Popular Posts

Latest Posts

ওয়ায়েস করনীর দাঁত ভাঙার গল্প | একটি ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী


ওয়ায়েস করনীর দাঁত ভাঙার গল্প লোকমুখে খুবই প্রসিদ্ধ। ঘটনাটি নিমণরূপ- ওহুদ যুদ্ধে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানদান মোবারক শহীদ হল তখন ওয়ায়েস করনী বিষয়টি জানতে পারলেন এবং যারপরনাই ব্যাথিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা ছিল। এ ঘটনা শুনে তিনি স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁত মোবারক যখন শহীদ হয়েছে তো আমার এ দাঁতের কী অর্থ! তিনি নিজের একটি দাঁত ভেঙে ফেললেন। পরক্ষণে চিন্তা করলেন, আমি যে দাঁত ভেঙেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হয়ত এ দাঁত ভাঙেনি অন্য দাঁত। তাই ভেবে তিনি নিজের আরেকটি দাঁত ভেঙে ফেললেন। এভাবে তিনি নিজের সবগুলো দাঁত ভেঙে ফেললেন।
নবীজীর প্রতি উম্মতের ভালবাসা প্রকাশের চূড়ান্ত নযীর হিসেবে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে এ ঘটনা বলে থাকেন। কিন্তু এ ঘটনার কোনোই ভিত্তি নেই। মোল্লা আলী কারী রাহ. বলেন, এ ঘটনা প্রমাণিত নয়। (দ্র. আলমা‘দিনুল আদানী, আলবুরহানুল জালি ফী তাহকীকি ইনতিসাবিস সুফিয়্যাতি ইলা আলী, পৃ. ১৬৪-১৬৫) ওয়ায়েস  করনী (উয়াইস আলকারানী) একজন বড় মাপের তাবেয়ী ও বুযুর্গ ছিলেন। ইয়ামানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ৩৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ তার হয়নি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা ছিল। তার বৃদ্ধা মা ছিলেন। মায়ের সাথে তিনি সদাচরণ করতেন। মায়ের সেবাযত্ন করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিনতেন। হাদীস শরীফে এসেছে, ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়ামান থেকে উয়াইস নামে এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসবে। ইয়ামানে মা ছাড়া তার আর কেউ নেই। তার শ্বেত রোগ ছিল । সে আল্লাহর কাছে দুআ করলে আল্লাহ তার রোগ ভাল করে দেন, কিন্তু তার শরীরের একটি স্থানে এক দিনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান সাদাই থেকে যায়। তোমাদের কেউ যদি তার সাক্ষাৎ পায় সে যেন তাকে নিজের জন্য ইস্তেগফার করতে বলে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৪২
ওয়ায়েস করনীর সাথে সাহাবীদের সাক্ষাতের ঘটনাও হাদীস শরীফে এসেছে। কিন্তু কোথাও এমন কিচ্ছার কথা নেই। সহীহ মুসলিমে এসেছে, ওমর রা.-এর সাথে ওয়ায়েস করনীর সাক্ষাতহলে তাকে সনাক্ত করার জন্য তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  বলে দেয়া সব আলামত জিজ্ঞাসা করেন। এ বর্ণনায় আছে ওমর রা. নবীজীর কথা অনুযায়ী তাকে নিজের জন্য ইস্তিগফার করতে বলেন, তিনি ওমর রা.-এর জন্য ইস্তিগফার করেন। পরবর্তী বছর হজ্বের মৌসুমে ওয়ায়েস করনী যে এলাকায় বসবাস করছিলেন সেখান থেকে এক ব্যক্তি এলে ওমর রা. তার (ওয়ায়েস করনীর) খোঁজ খবর নেন। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৪২)
Continue Reading...

নারী পুরুষ কিভাবে নামায আদায় করবেন? : পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি ( ২য় পর্ব)


তাকবীর বলার সময় ক্বেবলার দিকে মুখ করা

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এক ব্যক্তিকে নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার সময় বলেন,
ثم استقبل القبلة فكبر
“অতঃপর ক্বেবলামুখী হও এবং তাকবীর বলো।(সহীস বুখারী-২/৯৮৬ হা.৬৬৬৭, সহীহ মুসলিম-১/১৭০ হা. ৩৯৭)

দাঁড়ানো অবস্থায় নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলা

মুসল্লি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য যে নফল অথবা ফরয সালাত আদায়ের ইচ্ছা করেছে, অন্তরে তার নিয়ত করবে ও মুখে الله أكبر “আল্লাহু আকবার” বলবে, এবং সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রেখে হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবে। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 
 إذا قمت إلى الصلاة فكبر
“যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াও, তাকবির বল”।
ওমর ইব্ন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إنما الأعمال بالنيات “নিশ্চয় নিয়তের উপর আমল নির্ভরশীল”। 
নিয়ত মুখে উচ্চারণ করবে না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরাম নিয়ত মুখে উচ্চারণ করেননি। কেউ যদি অন্তরের নিয়তের সমর্থনমূলক উচ্চারণ করে তাতে কোনো সমস্যা হবে না, তবে  মুখে উচ্চারণ করাকে কোনো ইবাদত হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না । 

উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো

 তাকবিরে তাহরীমার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন। 
আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়ায়েল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, 
عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ   يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ فِى الصَّلاَةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ
“ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি নামাযে কান বরাবর হাত উঠাতেন।(আবু দাউদ, হাদীস-৭৩৭, নাসায়ী, হাদীস-৯৫৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস-১৫৬০০) 

সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা

আর সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা ও যমীনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার প্রমাণ হচ্ছে বায়হাকি ও হাকেম বর্ণিত হাদিস, যার স্বপক্ষে রাসূলের দশজন সাহাবি থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। 
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لينتهين أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في صلاتهم، أو لتُخْطَفَنَّ أبصارُهم
“যারা তাদের সালাতে আসমানের দিকে দৃষ্টি উঠায়, তারা অবশ্যই বিরত থাকবে, অথবা তাদের দৃষ্টি হরণ করা হবে”। 

উভয় হাত নিচে নামিয়ে ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জির পিঠ ধরে নাভির নিচে হাত বাঁধা
নামাযে হাত বাঁধা সুন্নত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে হাত বেঁধেছেন। তাঁর ডান হাত থাকতো বাম হাতের কব্জির উপর। সাহাবায়ে কেরামকে এভাবেই নামায পড়ার আদেশ করা হতো এবং তাঁরাও এভাবেই হাত বেঁধে নামায পড়তেন।
عن وائل بن حجر : أنه رأى النبي   رفع يديه حين دخل في الصلاة كبر، وصف همام حيال أذينه، ثم التحف بثوبه، ثم وضع يده اليمنى على اليسرى ...
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিয়ে দুই হাত তুললেন। রাবী বলেন, দুই কান বরাবর। এরপর পরিধানের চাদর গায়ে জড়িয়ে নিলেন, এরপর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।(মুসলিম-১/১৭৩)

x
Continue Reading...

নারী পুরুষ কিভাবে নামায আদায় করবেন? : পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি (১ম পর্ব)


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে সালাত আদায় করেছেন ঠিক সেভাবে সালাত করাই সালাতের বিশুদ্ধ পদ্ধতি। মালেক ইব্ন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
... صلوا كما رأيتموني أصلي.
“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবে সালাত আদায় কর”।  তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় যে সালাত আদায় করতে চায়, তার উচিত এ পুস্তকে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে সালাত আদায় করা:
  
পরিপূর্ণরূপে অযু করা

যেরূপ আল্লাহ তা‘আলা তার বাণীতে নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ وَإِن كُنتُمۡ جُنُبٗا فَٱطَّهَّرُواْۚ وَإِن كُنتُم مَّرۡضَىٰٓ أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا فَٱمۡسَحُواْ بِوُجُوهِكُمۡ وَأَيۡدِيكُم مِّنۡهُۚ مَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيَجۡعَلَ عَلَيۡكُم مِّنۡ حَرَجٖ وَلَٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمۡ وَلِيُتِمَّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ٦﴾ [سورة المائدة: ৬]
“হে মুমিগণ, যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাকনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত দ্বারা মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নিআমত তোমাদের উপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর”। (মায়েদা-৬)

আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا تقبل صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول
“পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কুবল করা হয় না, এবং খিয়ানতের সদকাও কবুল করা হয় না”(মুসলিম, হাদীস-২২৪)
 অতএব, সালাত আরম্ভ করার পূর্বে প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য জরুরি পরিপূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন(অযু বা গোসল) করা।

কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ানো

অর্থাৎ মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা ঘর সম্মুখে রেখে দাঁড়াবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥۗ [البقرة:১৪৪(
“সুতরাং(হে রাসূল) আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও।(বাক্বারা-১৪৪)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ভুল নিয়মে সালাত আদায়কারীর ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إذا قمت إلى الصلاة فأسبغ الوضوء ثم استقبل القبلة
“যখন তুমি সালাতের জন্য দন্ডায়মান হও, পরিপূর্ণরূপে অযু কর, অতঃপর কিবলা মুখী হও”।

ক্বেবলামুখী হওয়ার সময় চেহারা ক্বেবলার দিকে থাকা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা(সাহাবায়ে কেরাম) মসজিদে ক্বোবায় নামায আদায় করছিলেন, হঠাৎ জনৈক আগন্তুক এসে বললেন, আজ রাতে নবীজী সা.এর উর কুরআন নাযিল করা হয়েছে, তাঁকে হুকুম দেয়া হয়েছে কাবামূখী হওয়ার, অতএব, তোমরাও কাবামূখী হয়ে যাও। তখন তারা বায়তুল মুকাদ্দাসমূখী ছিলেন, অতঃপর তারা (নামাযেই) কাবামূখী হয়ে গেলেন। (সহীহে বুখারী-১/৫৮ হা. ৪০৩, সহীহে মুসলিম-১/২০০ হা. ৫২৬)

তাকবীর বলার সময় ক্বেবলার দিকে মুখ করা
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এক ব্যক্তিকে নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার সময় বলেন,
ثم استقبل القبلة فكبر
“অতঃপর ক্বেবলামুখী হও এবং তাকবীর বলো।(সহীস বুখারী-২/৯৮৬ হা.৬৬৬৭, সহীহ মুসলিম-১/১৭০ হা. ৩৯৭)

চলবে......

Continue Reading...

পবিত্র শবে বরাত: ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার রাত | মুফতি এনায়েতুল্লাহ

আরবি শাবান মাস একটি মোবারক মাস। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে তিনি এ মাসকে পালন করতেন। এ মাসের একটি রাতকে মুসলমানরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, মধ্য শাবানের এই রাত আমাদের এই জনপদে ‘শবেবরাত’ হিসেবে পরিচিত। আজ সেই মহিমান্বিত রাত।
ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। এ দু’টি শব্দ নিয়ে ‘শবেবরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। আজ ১৪ শাবান রোববার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবেবরাত। আল্লাহতায়ালা এ রাতে বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিগত জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি ও পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনায় আল্লাহর দরবারে সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশে শবেবরাতকে ‘ভাগ্যরজনী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
মুসলমানরা শবেবরাতে নফল নামাজ, জিকির-আজকার, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিনিদ্র রাত কাটায় ও আল্লাহতায়ালার কাছে বিনম্র প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য। একই সঙ্গে মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনেকে গভীর রাত অবধি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে শেষ রাতে সেহির খেয়ে পরদিন নফল রোজা রাখেন।
বাঙালি মুসলিম সমাজে শবেবরাতের একটি আনন্দঘন সামাজিক দিকও রয়েছে। এদিন মুসলমানদের বাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হালুয়া, পায়েস, রুটিসহ নানা উপাদেয় খাবার রান্না করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো এবং গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেকে মুক্ত হস্তে দান-খয়রাতও করে থাকেন। বরাবরের মতোই শবেবরাতের পরদিন অর্থাৎ কাল সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে।
শবেবরাতের বরকত, ফজিলত ও মর্যাদা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরেক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’
আটজন সাহাবির সূত্রে বিভিন্ন সনদে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, শবেবরাত ফজিলতময় এবং এ রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে ক্ষমা পাওয়ার শর্ত হলো- শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকা। এ দু’টি বিষয় থেকে যারা মুক্ত থাকবেন তারা কোনো অতিরিক্ত আমল ছাড়াই এ রাতের বরকত ও ক্ষমা লাভ করবেন। কিন্তু শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হতে না পারলে অন্য আমল দিয়ে ওই রাতের বরকত ও ক্ষমা লাভ করা যাবে না। দুঃখের বিষয় হলো, শবেবরাতে আমরা অনেক নফল আমল করলেও ওই দু’টি শর্ত পূরণের চেষ্টা খুব কম মানুষই করে থাকি।
আল্লাহতায়ালা যেকোনো সময় তার বান্দার দোয়া-প্রার্থনা কবুল করতে পারেন। তার পরও বছরের এমন কিছু বিশেষ সময়-ক্ষণ রয়েছে, যে সময়গুলোর মর্যাদা ও ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। সেসব দিন-ক্ষণে কৃত ইবাদত, দোয়া-মোনাজাতের মর্যাদা বেশি ও সওয়াবের মাত্রা অপরিসীম। এ বিষয়গুলো মুসলমানদের মনে শবেবরাতে ইবাদত-বন্দেগি ও বেশি বেশি নেক কাজ করার স্পৃহাকে জাগিয়ে তোলে। ফলে দেশব্যাপী শবেবরাত উপলক্ষে সৃষ্টি হয় এক ধর্মীয় আবহ। যা মানুষের ধর্মীয় বিষয়াদি পালনের আগ্রহ সৃষ্টিতে বিরাট সহায়ক হয়।

আমাদের দেশ মুসলিম প্রধান একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিককালে অপরাধপ্রবণতা এত অধিক প্রবৃদ্ধিমান যে, প্রতিদিন ভোরবেলা পত্র-পত্রিকা ও অন্য প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত খবরাদির প্রতি লক্ষ্য করলে লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় চলমান সমাজের অপরাধ প্রবণতা রোধে বেশি বেশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন আবশ্যক। শবেবরাত তেমনই একটি অনুষঙ্গ।
বস্তুত অপরাধের মূল উৎসসমূহ বন্ধ করতে দরকার সমাজের লোকদের পরিশুদ্ধি। ধর্মীয় এই চেতনা ও দৃঢ় মানসিকতা সমাজ মানসে সৃষ্টিতে শবেবরাতসহ যেসব ধর্মীয় কার্যকলাপ অধিক সহায়ক, সেসব কাজই আজ আমাদের সামনে উপস্থিত। আল্লাহ আমাদেরকে আন্তরিক পরিশুদ্ধতা লাভের সুযোগ হিসেবে দোয়া কবুল ও সংশোধনের দ্বারা জীবনকে শুদ্ধ ও পবিত্র করার যে সুযোগ দিয়েছেন আমাদের দিয়েছেন; এখন ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনের সবার কর্তব্য হলো, তার সদ্ব্যবহার করা। নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা।
আমরা জানি, মানুষ জীবনের চলার পথে বিভিন্ন লোভ-প্রলোভন ও ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়ে যেসব অপরাধে লিপ্ত হয়, ভবিষ্যতে একই অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হবে না- এরূপ দৃঢ় সংকল্প সহকারে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি বান্দার সব অপরাধ মার্জনা করেন। আজ যেহেতু তেমন একটি মহাসুযোগের রাত, তাই এ রাতে কাতর ফরিয়াদ মিশ্রিত দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো দরকার।

banglanews24
Continue Reading...

নারী পুরুষ কিভাবে নামায আদায় করবেন? (১ম পর্ব)


নারী পুরুষের শারীরিক গঠন, সক্ষমতা, নিরাপত্তা ইত্যাদী নানা বিষয়ে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি পার্থক্য রয়েছে ইবাদতসহ শরীয়তের অনেক বিষয়ে। যেমন-
১-পুরুষ ও মহিলা উভয়ের উপরই হজ্ব ফরয। কিন্তু মহিলাদের জন্য পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি শর্ত।
২-ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ। অথচ মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢেকে রাখা ফরয।
৩-ইহরাম খোলার সময় পুরুষ মাথা মুন্ডায়। কিন্তু মহিলাদের মাথা মুন্ডানো নিষেধ।
৪-হজ্ব পালনকালে পুরুষ উচ্চ আওয়াজে তালবীয়া পাঠ করে, পক্ষান্তরে মহিলাদের জন্য নিম্ন আওয়াজে পড়া জরুরী।
৫-পুরুষের উপর জুমআ পড়া ফরয, মহিলাদের উপর নয়।
৬-নামাযে সতর্ক করার মত কোন ঘটনা ঘটলে সতর্ক করার জন্য পুরুষের তাসবীহ পড়ার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের তাসফীক করা তথা হাতে শব্দ করার বিধান। 
৭-ইমাম ও খতীব শুধু পুরুষই হতে পারে, কোন নারী হতে পারেনা। 
৮-আজান শুধু পুরুষই দিবে, কোন নারীকে মুয়াজ্জিন বানানো জায়েয নয়। 
৯-পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামায পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর মহিলাদের ঘরে নামায পড়াই উত্তম বলা হয়েছে।
১০-সতর। পুরুষের সতর হল নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত। আর পরপুরুষের সামনে নারীদের সতর হল প্রায় পুরো শারীরই ঢেকে রাখা ফরয।
নারী-পুরুষের মাঝে এরকম পার্থক্যসম্বলিত ইবাদতসমূহের অন্যতম হলো নামায। তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো, হাত বাঁধা, রুকু, সেজদা, প্রথম ও শেষ বৈঠক ইত্যাদী ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সাথে নারীর পার্থক্য রয়েছে। তাদের সতরের পরিমাণ যেহেতো বেশি তাই যেভাবে তাদের সতর বেশী রক্ষা হয় সেদিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে ক্ষেত্রগুলিতে। মুসলিম উম্মাহর প্রায় দেড় হাজার বছরের অবিচ্ছিন্ন আমলের ধারা তাই প্রমাণ করে। বিষয়টি প্রমাণিত রাসূলে কারীম সা. এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের ফতোয়া ও আছারের মাধ্যমে।
প্রথমে আমরা পুরুষদের নামায আদায়ের পদ্ধতি উল্লেখ করছি, এরপর মহিলাদের নামায আদায়ের পদ্ধতি উল্লেখ করবো ইনশা আল্লাহ। 
চলবে......।
Continue Reading...

রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীঃ ডা: আব্দুল বাছেত

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে কোন কিছুই ভাল লাগে না। ক্ষেত-খামারের কাজই হোক, আর কুলি-মজুরের কাজই হোক, অফিসের কাজই হোক, আর অধ্যয়নের কাজই হোক, এমনকি আল্লাহর এবাদত-বন্দেগী করতে গেলেও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া একান্ত দরকার, রুগ্ন ও ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে এর কোনটাই করা সম্ভব নয়। আমাদের পিয়ারা নবী, হজরত মোহাম্মদ (স:) এই তথ্যটি এত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ইসলামের প্রতিটি কাজের ভেতর দিয়ে তিনি এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
অজু-গোসল থেকে শুরু করে, তায়ম্মুম, নামাজ, ও রোজার ভিতর দিয়ে, সময়মত নিদ্রা ও নিয়মিত আহারের মাধ্যমে এবং মাদকদ্রব্য বর্জনের দ্বারা তিনি স্বাস্থ্যকে বজায় রাখার এমন কতকগুলো ব্যবস্থাপনা দিয়ে গিয়েছেন, যাকে বর্তমান জগতের কম্পিউটার সিসটেমের সঙ্গে অথবা একটি পানি বিশুদ্ধকরণ মেশিনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যে মেশিন দুষিত পানির ধুলা-ময়লা আবর্জনা ও রোগ-জীবাণুকে ছেঁকে আলাদা করে দিয়ে, বিশুদ্ধ পানি বের করে আনে সর্বসাধারণের পানের উপযোগী করে।
আহার ও নিদ্রা:
ইসলাম প্রচারের চৌদ্দশত বছর পরে, বর্তমান জগতের ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, অতিভোজনকারীর জীবন, স্বল্প ভোজনকারীর জীবনের চেয়ে বেশী ক্ষণস্থায়ী অর্থাৎ মোটা লোক কাজে-কর্মেও দুর্বল এবং তারা তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরণ করে। এর কারণ নির্ণয়ে দেখা গেছে যে, মোটা লোকের শরীরে কলেস্টেরল জমা হয়, যা হৃৎপিন্ডের কাজের ব্যাঘাত ঘটায় এবং তাতে তাড়াতাড়ি মানুষের মৃত্যু হয়। রাসুলুলস্নাহ (স:) সর্বদা স্বল্পাহারী ছিলেন এবং অন্যকেও স্বল্পাহারের উপদেশ দিতেন, সেই সঙ্গে আবার কেউ যাতে অনাহারে না থাকে, সেদিকেও সর্বদা সু-নজর রাখতেন।
রোযা:
রাসুলে করীম (স:) রোযার খুব ভক্ত ছিলেন এবং রমযানের রোযা ছাড়াও, সারা বছরই বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রোযা রাখতেন। রমযানের রোযা সমন্ধে হাদীসে বলা হয়েছে- বিনা কারণে একটা রোযা ভঙ্গ করলে সে যদি সারাজীবনও রোযা রাখে তাহলে তার প্রতিশেধক হবে না রোযা সমন্ধে এত জোর তাগিদ কেন দেয়া হয়েছে? এর প্রধান কারণ এই যে, অর্থাভাবে যারা অনাহারে থাকে, তাদের ড়্গুধার কষ্ট কি দুর্বিষহ, তা যাতে সকলেই উপলব্ধি করতে পারে, ধনীর বাড়ীর পাশে যাতে কোন গরীব অনাহারে না থাকে, ধনীরা-গরীবের প্রতি যাতে সহানুভূতিশীল হয় এবং ফিতরার টাকা, যাকাতের টাকা ও অন্যান্য টাকা দিয়ে যাতে তাদের সাহায্য করে। আর দ্বিতীয় কারণ হলো স্বাস্থ্যগত| রোযায় মানুষের স্বাস্থ্য খারাপ হয়- এটাই সর্ব সাধারণের ধারণা কিন্তু এতে যে স্বাস্থ্য আরো ভাল থাকে- এ সমন্ধে কিন্তু অনেকেরই সুস্পষ্ট ধারণা নেই। যে সমস্ত লোক এতে উপকৃত হয়ে থাকেন, তাঁরা হচ্ছেন অধিক ভোজনের জন্য যাদের দেহে কলেস্টেরল বা চর্বি জমা হয়, হৃৎপিন্ডের কাজের ব্যাঘাত ঘটায় এবং মৃত্যু ডেকে আনে। রমযানের রোযার, এক মাস কৃচ্ছ্রসাধনার ফলে, তাঁদের হৃৎপিন্ড আবার স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায় এবং এতে তাদের জীবনে আয়ু বৃদ্ধি পায়। ধুমপায়ীদের জন্যও রোযা একটা বিরাট উপকার করে, তাদের ফুসফুস অন্তত এক মাসের জন্য নিকোটিনের বিষক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকে। কোষ্ঠ-কাঠিন্যের জন্যও রোযা কিছুটা সুফল আনে। একই রাতে তিনবার আহার করায় এবং ইফতারীর সময় প্রচুর পানি ও শরবত পান করায়, কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের জন্যও রোযা অপরিসীম হৃত সাধন করে থাকে।
তাছাড়া রোযা রেখেও যে পূর্ণ শৌর্য-বীর্যের কাজ করা যায়, তার প্রমাণ পেয়েছি আমরা বদরের যুদ্ধে। রমযান মাসের ১৭ তারিখে বদরের যুদ্ধে মাত্র তিনশত তের জন রোযাদার মুসলমান, এক হাজার অ-রোযাদারের বিরুদ্ধে বীর-বিক্রমে তুমুল যুদ্ধ করে তাদেরকে যেভাবে ধরাশায়ী করে বিজয়ের মালা ছিনিয়ে এনছিলেন, কিয়ামত পর্যন্ত সারা দুনিয়ার মুসলমান তা গৌরবভরে স্মরণ করবে।
ওযু
আল্লাহর যে-কোন এবাদত বন্দেগী শুরু করার আগে, দেহ ও মনকে পবিত্র করার জন্য ওযুর ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা যখন কোন রাজা-বাদশার দরবারে যাই, তখন ভাল করে গোসল করে, সুন্দর সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে, আতর-গোলাপ-খুশবু মেখে সেই দরবারে হাজির হই। আর আল্লাহর এবাদত করার সময় আমরা আল্লাহর দরবারে হাজির হচ্ছি। তিনি হচ্ছেন, রাব্বুল আলামীন, সারা আলমের শাহান শাহ, বাদশাহ, কাজেই তাঁর দরবারে হাজির হওয়ার আগে আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পূত-পবিত্র হতে হবে এটাই স্বাভাবিক|
তায়াম্মুম:
আল্লাহর ইবাদত করতে গেলে ওযু-গোসলের একান্ত দরকার এবং তা করার জন্য জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। যিনি অসুস্থ, ওযু-গোসল করতে গেলে যার অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তিনি কি করবেন? নিজের জীবন বিপন্ন করেও কি তিনি ওযু-গোসল করবেন? না, ওযু-গোসল করা গেল না বলে, আল্লাহর এবাদতই ছেড়ে দেবেন? এমন দুটি কঠিন প্রশ্নের সমাধানের জন্য আলস্নাহ তায়ালা তায়াম্মুমের বিধান দিয়েছেন। তায়াম্মুমের ব্যবস্থা করে আলস্নাহ তায়ালা ইবাদতের পথ ও খোলা রেখেছেন, আবার পানির স্পর্শে এসে রোগীর রোগ-যন্ত্রণা যাতে বৃদ্ধি না পায়, সে ব্যবস্থাও করেছেন।
নামাজ:
সমস্ত ইবাদতের শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো নামাজ, যা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী প্রিয়। তাই নামাজপড়া মুসলমানদের একান্ত কর্তব্য। এই নামাজ, কুরআন তেলাওয়াতের মত বসে বসে পড়ারও ব্যবস্থা করা যেত অথবা যোগী-ঋৃষীদের মত বৃক্ষতলায় বসে জপমালার মত তসবীহ হাতে জপ করা যেত। তাই যে নামাজ বান্দারা সারাজীবন পড়বে এবং এক দিনে বারে বারে পড়তে হবে, সেটাকে অলস, অথর্বের মত এক জায়গায় চুপ করে বসে বসে পড়ে হাত-পা গুলোকে স্থবির করে দিতে চাননি। বরং ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে, সারা শরীরের এক্সারসাইজ হয়ে, শরীরে যাতে বেশী করে রক্ত সঞ্চালন হয়, মুসুল্লিগণ যাতে কর্মক্ষম থাকেন এবং রুজী-রোজগারের জন্য হাত-পা যাতে শক্ত-সবল থাকে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রেখে নামাজের পদ্ধতিগুলো ঠিক করেছেন। শরীরকে সুস্থ-সবল রাখার জন্য আজকাল জিমনাসিয়ামে যেসব এক্সারসাইজের ব্যবস্থা দেয়া হয়, নামাজের ভেতর দিয়েও ইসলামে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যবস্থাই দেয়া হয়েছে। সবশেষে তাই আমাদের একানত্ম কামনা হওয়া উচিৎ পবিত্র রমজানের একমাস রোযা ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর জান্নাত প্রাপ্তি।
Continue Reading...