নারী পুরুষ কিভাবে নামায আদায় করবেন? : পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি ( ২য় পর্ব)


তাকবীর বলার সময় ক্বেবলার দিকে মুখ করা

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এক ব্যক্তিকে নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার সময় বলেন,
ثم استقبل القبلة فكبر
“অতঃপর ক্বেবলামুখী হও এবং তাকবীর বলো।(সহীস বুখারী-২/৯৮৬ হা.৬৬৬৭, সহীহ মুসলিম-১/১৭০ হা. ৩৯৭)

দাঁড়ানো অবস্থায় নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলা

মুসল্লি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য যে নফল অথবা ফরয সালাত আদায়ের ইচ্ছা করেছে, অন্তরে তার নিয়ত করবে ও মুখে الله أكبر “আল্লাহু আকবার” বলবে, এবং সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রেখে হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবে। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 
 إذا قمت إلى الصلاة فكبر
“যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াও, তাকবির বল”।
ওমর ইব্ন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إنما الأعمال بالنيات “নিশ্চয় নিয়তের উপর আমল নির্ভরশীল”। 
নিয়ত মুখে উচ্চারণ করবে না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরাম নিয়ত মুখে উচ্চারণ করেননি। কেউ যদি অন্তরের নিয়তের সমর্থনমূলক উচ্চারণ করে তাতে কোনো সমস্যা হবে না, তবে  মুখে উচ্চারণ করাকে কোনো ইবাদত হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না । 

উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো

 তাকবিরে তাহরীমার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন। 
আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়ায়েল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, 
عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ   يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ فِى الصَّلاَةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ
“ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি নামাযে কান বরাবর হাত উঠাতেন।(আবু দাউদ, হাদীস-৭৩৭, নাসায়ী, হাদীস-৯৫৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস-১৫৬০০) 

সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা

আর সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা ও যমীনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার প্রমাণ হচ্ছে বায়হাকি ও হাকেম বর্ণিত হাদিস, যার স্বপক্ষে রাসূলের দশজন সাহাবি থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। 
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لينتهين أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في صلاتهم، أو لتُخْطَفَنَّ أبصارُهم
“যারা তাদের সালাতে আসমানের দিকে দৃষ্টি উঠায়, তারা অবশ্যই বিরত থাকবে, অথবা তাদের দৃষ্টি হরণ করা হবে”। 

উভয় হাত নিচে নামিয়ে ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জির পিঠ ধরে নাভির নিচে হাত বাঁধা
নামাযে হাত বাঁধা সুন্নত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে হাত বেঁধেছেন। তাঁর ডান হাত থাকতো বাম হাতের কব্জির উপর। সাহাবায়ে কেরামকে এভাবেই নামায পড়ার আদেশ করা হতো এবং তাঁরাও এভাবেই হাত বেঁধে নামায পড়তেন।
عن وائل بن حجر : أنه رأى النبي   رفع يديه حين دخل في الصلاة كبر، وصف همام حيال أذينه، ثم التحف بثوبه، ثم وضع يده اليمنى على اليسرى ...
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিয়ে দুই হাত তুললেন। রাবী বলেন, দুই কান বরাবর। এরপর পরিধানের চাদর গায়ে জড়িয়ে নিলেন, এরপর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।(মুসলিম-১/১৭৩)

x