নারী পুরুষ কিভাবে নামায আদায় করবেন? : পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি (১ম পর্ব)


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে সালাত আদায় করেছেন ঠিক সেভাবে সালাত করাই সালাতের বিশুদ্ধ পদ্ধতি। মালেক ইব্ন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
... صلوا كما رأيتموني أصلي.
“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবে সালাত আদায় কর”।  তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় যে সালাত আদায় করতে চায়, তার উচিত এ পুস্তকে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে সালাত আদায় করা:
  
পরিপূর্ণরূপে অযু করা

যেরূপ আল্লাহ তা‘আলা তার বাণীতে নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ وَإِن كُنتُمۡ جُنُبٗا فَٱطَّهَّرُواْۚ وَإِن كُنتُم مَّرۡضَىٰٓ أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا فَٱمۡسَحُواْ بِوُجُوهِكُمۡ وَأَيۡدِيكُم مِّنۡهُۚ مَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيَجۡعَلَ عَلَيۡكُم مِّنۡ حَرَجٖ وَلَٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمۡ وَلِيُتِمَّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ٦﴾ [سورة المائدة: ৬]
“হে মুমিগণ, যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাকনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত দ্বারা মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নিআমত তোমাদের উপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর”। (মায়েদা-৬)

আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا تقبل صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول
“পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কুবল করা হয় না, এবং খিয়ানতের সদকাও কবুল করা হয় না”(মুসলিম, হাদীস-২২৪)
 অতএব, সালাত আরম্ভ করার পূর্বে প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য জরুরি পরিপূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন(অযু বা গোসল) করা।

কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ানো

অর্থাৎ মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা ঘর সম্মুখে রেখে দাঁড়াবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥۗ [البقرة:১৪৪(
“সুতরাং(হে রাসূল) আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও।(বাক্বারা-১৪৪)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ভুল নিয়মে সালাত আদায়কারীর ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إذا قمت إلى الصلاة فأسبغ الوضوء ثم استقبل القبلة
“যখন তুমি সালাতের জন্য দন্ডায়মান হও, পরিপূর্ণরূপে অযু কর, অতঃপর কিবলা মুখী হও”।

ক্বেবলামুখী হওয়ার সময় চেহারা ক্বেবলার দিকে থাকা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা(সাহাবায়ে কেরাম) মসজিদে ক্বোবায় নামায আদায় করছিলেন, হঠাৎ জনৈক আগন্তুক এসে বললেন, আজ রাতে নবীজী সা.এর উর কুরআন নাযিল করা হয়েছে, তাঁকে হুকুম দেয়া হয়েছে কাবামূখী হওয়ার, অতএব, তোমরাও কাবামূখী হয়ে যাও। তখন তারা বায়তুল মুকাদ্দাসমূখী ছিলেন, অতঃপর তারা (নামাযেই) কাবামূখী হয়ে গেলেন। (সহীহে বুখারী-১/৫৮ হা. ৪০৩, সহীহে মুসলিম-১/২০০ হা. ৫২৬)

তাকবীর বলার সময় ক্বেবলার দিকে মুখ করা
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এক ব্যক্তিকে নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার সময় বলেন,
ثم استقبل القبلة فكبر
“অতঃপর ক্বেবলামুখী হও এবং তাকবীর বলো।(সহীস বুখারী-২/৯৮৬ হা.৬৬৬৭, সহীহ মুসলিম-১/১৭০ হা. ৩৯৭)

চলবে......